নোয়াখালী প্রতিনিধি : জেলায় অবরোধকালে পুলিশের সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে পথচারীসহ ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহর যুবদলের আহ্বায়ক মুনির উদ্দিন ও জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক রাসেলের নেতৃত্বে শহরের রশিদকলোনি এলাকা থেকে অবরোধের সমর্থনে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের পৌর কল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে আসলে মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে একটি অটোরিশা ভাঙচুর করে। এ সময় মিছিল থেকে সড়কের পাশের কিছু দোকানে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে নেতাকর্মীরা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে অবরোধকারীদের সঙ্গে রশিদকলোনি, শৈল্লার দোকান, মফিজপ্লাজা এলাকায় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর ২০ দলের কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় দুই পথচারীসহ ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন-উর-রশিদ আজাদ জানান, ২০ দলের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ গুলি ছুড়েছে। এতে বিএনপি ও ছাত্রদল কর্মী হৃদয়, রিয়াজ, ফাহাদ, সামু ও জালাল গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফরিদ উদ্দিন জানান, বুধবার দুপুর ১টা পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের সবার গায়ে শর্টগানের গুলি লেগেছে।
এরআগে, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপির ৪, জামায়াতের ২ ও শিবিরের ৩ কর্মীকে আটক করেছে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে ৫/৬ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছাত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।